
ইউজিভি’র সমাবর্তন- আনন্দের উৎসব, গর্বের ঘোষণা ও সম্ভাবনার জবাব!
যারা দিনের পর দিন অপপ্রচার, ভুয়া খবর আর উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি)-কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে-১৮ অক্টোবরের দিনটি তাদের সব মিথ্যার জবাব হয়ে থাকবে ইতিহাসে।
১৮ অক্টোবর বরিশালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (UGV)-এর সমাবর্তন।নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলস পার্ক সেদিন সাক্ষী ছিল এক অনন্য অধ্যায়ের,যেখানে গুজব নয়, কথা বলেছে অর্জন অপবাদ নয়, কথা বলেছে সাফল্য।
উৎসব নয়,এটি ছিল একটি শক্ত অবস্থান, ১৮ অক্টোবর, শনিবার। সকাল থেকেই বেলস পার্ক যেন রূপ নেয় সম্ভাবনার নগরীতে। গাউন পরা শিক্ষার্থীদের সারি, হাতে সনদ, চোখে স্বপ্নএই দৃশ্য শুধু আনন্দের নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার প্রকাশ।
রঙিন মঞ্চ, আলোকসজ্জা,ফুল আর সংগীতের মাঝে স্পষ্ট ছিল একটি বার্তা,ইউজিভি দাঁড়িয়ে আছে, এগিয়ে যাচ্ছে, এবং থামবার নয়।বরিশাল এখন শুধু নদী-সংস্কৃতির শহর নয়,শিক্ষার শহরযারা বলেছিল দক্ষিণাঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা সম্ভব নয়, ইউজিভি তাদের সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে বাস্তবে।
কৃষি, ইঞ্জিনিয়ারিং,বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে হাজারো শিক্ষার্থী আজ দেশজুড়ে কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখছে,এটাই বাস্তবতা।
এই সমাবর্তন ছিল সেই যাত্রার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, ইউজিসি চেয়ারম্যানের স্পষ্ট বার্তা জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর পক্ষে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,তোমরা আজ গর্বিত গ্র্যাজুয়েট। দেশ ও জাতি তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ইউজিভি বাংলাদেশের ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম এটি প্রমাণিত সত্য।
এই বক্তব্যই ভুয়া প্রচারণার মুখে সবচেয়ে শক্ত জবাব।মাইলফলক বললেন ভিসি,দৃষ্টান্ত বললেন বোর্ড চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুল বাকী বলেন,ইউজিভি’র প্রথম সমাবর্তন আমাদের ইতিহাসে এক মাইলফলক।এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের শ্রম ও সম্ভাবনার স্বীকৃতি।বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড.মো. ইমরান চৌধুরী আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, আমরা শুধু ডিগ্রিধারী নয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম, দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করছি। ইউজিভি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সম্মানিত শিক্ষাবিদদের উপস্থিতি,বিশ্বাসযোগ্যতার সিলমোহর,সমাবর্তনে বক্তব্য দেন দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ,বিওটি সদস্য মো. শওকত হোসেন খান,উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ,কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাবেয়া বেগম,এবং সমাবর্তন আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহমেদ।সমাবর্তন আহ্বায়ক জানান,৮টি গ্র্যাজুয়েট ও ১৪টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ব্যাচের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।এই এ্যালমনাইরাই ইউজিভিকে এগিয়ে নেবে।শিক্ষার্থীদের কণ্ঠেই আসল সত্য শিক্ষার্থী কাজি নুসরাত জাহান বলেন,নিজ শহরে এমন সমাবর্তনএটা আমাদের পরিবারের গর্ব।
রাকিব হাসান বলেন,ইউজিভি আমাদের শুধু পড়াশোনা নয়, জীবন শিখিয়েছে।অপপ্রচারের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ২০১৬ সালের ৬ জুন কীর্তনখোলার তীরে, জীবনানন্দ দাশের শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ।
বর্তমানে ৪টি অনুষদে ৬টি আন্ডারগ্রাজুয়েট,৫টি গ্র্যাজুয়েট,১টি ডিপ্লোমা কোর্সেপ্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।এগুলো অনুমান নয়,এগুলো নথিভুক্ত সত্য।
সমাবর্তন শেষ হয়েছে, কিন্তু বার্তা থেকে গেছে।
ইউজিভি কোনো কাগুজে প্রতিষ্ঠান নয়, কোনো ভুয়া প্রচারণার ফসল নয়,এটি বরিশালের শিক্ষার ইতিহাসে একটি বাস্তব, দৃঢ় ও অগ্রসরমান অধ্যায়।১৮ অক্টোবর দিনটি হয়তো মনে থাকবে,যেদিন গাউন পরা তরুণরা শুধু সনদ নেয়নি,সব অপপ্রচারের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।