নিজস্ব প্রতিবেদক।।তামাক নিয়ন্ত্রন আইন বাস্তবায়নে কেরাণীগঞ্জ উপজেলার অবস্থা পর্যালাচনা শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধি জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাষ্টের সার্বিক সহযোগিতায় কেরাণীগঞ্জ হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি(কেএইচআরডিএস)এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন। ৮জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সংগঠনটির আগানগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ি মালোপাড়াস্থ কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কেরাণীগঞ্জ হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি(কেএইচআরডিএস) এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা শামীমা সুলতানার উপস্থাপনা ও পরিচালনায় এসময় সংগঠনটির নারীকর্মী চঞ্চলা বর্মন,বীনা রাণী কর্মকারসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ এ আলোচনাসভায় অংশ নেয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকগণ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকপণ্যের প্রচার ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে তামাক কোম্পানির লোভের মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে দেশের তারুণ্য। তারা বলেন,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাক (বিড়ি, সিগারেট, জর্দ্দা, গুল, সাদাপাতা) ব্যবহারে দেহে ২৫টির বেশি প্রাণঘাতী রোগ দেখা দিতে পারে। যার মধ্যে ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুঁসফুঁসের ক্যানসার অন্যতম।বক্তারা আরো বলেন, তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। যে হারে এটি ছড়িয়ে পড়ছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। তাছাড়া ইদানীং দেখা যায়, কিশোর-তরুণদের যাতায়াত বেশি এমন বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘ধূমপানের স্থান’ বেড়ে যাচ্ছে।মূলত রেস্টুরেন্ট মালিকদের সুবিধা দিয়ে সেগুলো তৈরি করছে সিগারেট কোম্পানিগুলো। সেখানে ধূমপান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাদকও সেবন করা হয়। ফলে তরুণদের মধ্যে সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ উঠে যাচ্ছে।
বিষয়গুলো আমলে নিয়ে বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হয়েছে।এ আইনের মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। সকল পাবলিক পে¬স ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। সরকারের এ কঠোর ণীতি মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দাবী জানান আলোচকগণ।