
নিজস্ব প্রতিবেদক।। তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়া লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ম্যানেজার জুলফিকারের বিরুদ্ধেবরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো এখন আর যাত্রীসেবার কেন্দ্র নয়,এটি পরিণত হয়েছে অনিয়ম,দুর্নীতি,চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির এক ভয়ংকর আখড়ায়।অভিযোগের তীর এক ব্যক্তির দিকেই,ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) জুলফিকার।
ডিপোর কর্মচারী,চালক ও কন্ডাকটরদের ভাষ্যমতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে এই জুলফিকার দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছেন বেপরোয়া দৌরাত্ম্য। কথায় কথায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ,ভয় দেখানো, জিম্মি করে রাখা এবং তথাকথিত চোঙ্গির নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
যোগদান করেই শুরু অপকর্ম!
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিআরটিসির ঢাকা হেড অফিস থেকে চট্টগ্রাম হয়ে বরিশাল বাস ডিপোতে বদলি হয়ে আসেন জুলফিকার। ডিপোতে যোগদানের পরপরই যেন মুখোশ খুলে পড়ে। কর্মচারীদের অভিযোগ,যোগদানের দিন থেকেই তিনি শৃঙ্খলার নামে শুরু করেন একক আধিপত্য, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অর্থ আদায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
প্রতিটি ট্রিপেই চাঁদা,না দিলে নির্যাতন!
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক ও কন্ডাকটর জানান,বরিশাল বিআরটিসি ডিপো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৩টি বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। প্রতিটি বাস ডিপোতে ঢুকলেই ‘জব’ এর নামে ৫০০ টাকা আদায় করা হয় ফোরম্যান দপ্তরে।এতেই শেষ নয়,রাজস্ব জমা দেওয়ার সময় হিসাব বিভাগে ম্যানেজার ফারুক ও চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে প্রতি ট্রিপে আরও ১,০০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই চালক-কন্ডাকটরদের ওপর নেমে আসে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও রুট বাতিলের ভয়।
ভুয়া ভাউচার, যন্ত্রাংশ বিক্রি ও টায়ার কেলেঙ্কারি!
ডিপো সূত্র জানায়, বাস মেরামতের নামে নিয়মিত ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।নিজের পছন্দের কোম্পানি থেকে নিম্নমানের রিসাইকেল টায়ার কম দামে কিনে, কাগজে বেশি দাম দেখিয়ে বাকি টাকা পকেটে ভরছেন জুলফিকার,এমন অভিযোগও রয়েছে।এছাড়া বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর আওতাধীন খুলনা-পাথরঘাটা রুটের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ২১৯৪) থেকে চাকা, বডি ও ইঞ্জিন খুলে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে গভীর রাতের আঁধারে বাসটি খুলনা সোনাডাঙা থেকে সরিয়ে খুলনা বিআরটিসি ডিপোতে নেওয়া হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সন্ত্রাসের রাজত্ব!
ডিপোটি এখন কার্যত অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি বাহিনী এখনও সক্রিয়।অভিযোগ রয়েছে,কোনো সংবাদকর্মী ডিপোতে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেই তাকে নাজেহাল হতে হয়। সম্প্রতি বরিশাল আর টিভির এক সংবাদকর্মী সংবাদ সংগ্রহে গেলে জুলফিকার ও তার সহযোগীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে ডিপো সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আওয়ামী পরিচয়ে বেড়ে ওঠা বহুরূপী জুলফিকার!
ডিপোর একাধিক সূত্র জানায়,২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী সুপারিশে জুলফিকার বিআরটিসিতে চাকরিতে যোগ দেন। যে ডিপোতেই কাজ করেছেন, সেখানেই তিনি আওয়ামী প্রভাব খাটিয়েছেন।
বিআরটিসির অন্দরমহলে চাউর রয়েছে,তিনি ফেসবুকে পলাতক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে জাহির করতেন এবং তার নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখাতেন।আজ সেই একই ব্যক্তি এখন তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে বরিশালে বেপরোয়া কার্যক্রম চালাচ্ছেন,যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য চরম অপমানজনক।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও বিআরটিসির প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ম্যানেজার।জুলফিকারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন,কোনো চোঙ্গি বা চাঁদা নেওয়া হয় না।এরপর অফিসে আসতে বলেই ফোন কেটে দেন এবং পুনরায় আর ফোন রিসিভ করেননি।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন,আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন থেকেই যায়,সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে দিনের পর দিন চাঁদাবাজি চলবে কতদিন রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে লুটপাটকারীদের দায় নেবে কে?কবে এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে?বরিশাল বিআরটিসির সাধারণ কর্মচারী ও যাত্রীসেবার স্বার্থে এখনই স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে,এই অপকর্ম আরও ভয়াবহ রূপ নেবে,এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।